New Gadgets, Smartphone and Software Review

Showing posts with label ধর্ম. Show all posts
Showing posts with label ধর্ম. Show all posts

Saturday, December 14, 2019

কাদিয়ানী কাফের ১০০% প্রমাণসহ সঠিক তথ্য জানুন তাঁরা আসলেই কি ?

December 14, 2019 0

কাদিয়ানী কাফের !

কাদিয়ানী ফেরকার যাত্রা শুরু হয় ২৩ মার্চ ১৮৮৯ সালে ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাস জেলার কাদিয়ান নামক গ্রামে । এর ঠিক দু'বছর পরে ১৮৯১ সালে শেখ মুহাম্মদ হোসেন বাটালভী সাহেবের উদ্যেগে ৭২ ফেরকার আলেম-উলামা সর্বসম্মত হয়ে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ( আঃ ) এবং তাঁর অনুসারীদের কাফের ও জাহান্নামী ফতোয়া দান করেন । সেই থেকে অধ্যবধি কাদিয়ানী কাফের শব্দটা আস্টে-পৃস্টে লেগে আছে তাঁদের ওপর । পৃথিবীর যে প্রান্তেই ঐ ৭২ ফেরকার মানুষেরা সুযোগ পায় , সেই প্রান্তেই কাদিয়ানী সম্প্রদায় এর ওপর চালানো হয় শারীরিক, মানষিক ও আর্থিক অত্যাচার , অবিচার ও নির্যাতন ; তবু তাঁদের প্রচার প্রচারণা থেমে নেই । প্রতি বছর বিভিন্ন ধর্মের লক্ষ লক্ষ মানুষ এই অত্যাচার , অবিচার ও নির্যাতন দেখেও কাদিয়ানী হচ্ছে । কি আছে সে আহমদীয়া মুসলিম জামাতে যে তাঁরা এই ১০০ বছরে পুরো পৃথবী দখল করে ফেলল - একবিন্দু রক্ত না ঝড়িয়ে ? । অনেকেই বলে থাকেন যে কাদীয়ানী সম্প্রদায় এর লোকজন যাদু জানে । তারা যাদু দিয়ে সহজ সরল মানুষ কে ভুলিয়ে বালিয়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায় এর অন্তর্ভুক্ত করে ফেলে । তারা যে যাদু জানে সে যাদুর মূলমন্ত্র হচ্ছে - অহিংসা ।

কাদিয়ানী কাফের
কাদিয়ানী কাফের !

কাদিয়ানী সম্প্রদায় এর স্লোগান

"Love for all hatred for none" যার বাংলা অর্থ হচ্ছে- "ভালোবাসা সবার তরে, ঘৃণা নয় কারো পরে"

আপনি বিশ্বাস করুণ আর নাই করুণ ২০৬ টা দেশ তাঁরা জয় করেছে এক বিন্দু রক্ত না ঝরিয়ে । কাদিয়ানী কাফির'রা এই পর্যন্ত যত মসজিদ নির্মাণ করেছে তার বেশির ভাগই দখল করে নিয়েছে শিয়া - সুন্নীরা । কাদিয়ানীরা তাঁদের বেদখল হওয়া মসজিদ ফিরে পাবার জন্য আইনী লড়াই করেছে কিন্তু নিজেদের হাতে অস্র তুলে নেয়নি । কেন তাঁরা অস্র তুলে নেয়নি ? কারণ তাঁরা যার হাতে বয়াত নিয়ে কাদিয়ানী ( আহমদী ) হয়েছে তার আদেশ হচ্ছে - " জিহাদ নিষেদ" আর এই কারনেই কাদিয়ানীরা জ্বালাও-পোড়াও, মারামারি এবং দখলবাজীতে পুঠো হতে পারেনি । তাঁদের নীতি হচ্ছে, কেউ তোমাকে শালা বললে ; তুমি তাকে ভাই বলবে- আজ অথবা কাল অথবা একদিন না একদিন সে তোমাকে ভাই বলবেই । কাদিয়ানীরা ভালোবাসা দিয়ে বিশ্ব জয় করেছে ; ঘৃণা বা অস্রের ভয় দেখিয়ে নয় । আফ্রিকার কয়েকটা দেশ আছে , যাদের সংসদের প্রতিনিধিত্ব কারীদের বেশির ভাগ এই - কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের । আসুন এখন জানি, বাটালভী সাহেব যখন কাদীয়ানী কাফের ফতোয়া দিলেন , তখন আহমদীয়া জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ) কি বলেছেন-

আমি কাফের নই এবং মুরতাদও নই । পরিতাপ! আপনারা ঐশী রহস্যকে বুঝতে পারেন নি । আপনারা হতবুদ্ধি হয়ে গেছেন । আপনাদের সন্দেহ সীমা ছাড়িয়ে গেছে আর আপনারা আমাকে কাফের আখ্যায়িত করেছেন । আমি আপনাদের যা বলেছি এর এক দশমাংশও আপনারা উপলব্ধি করতে পারেন নাই । আপনারা আসলে একটি ত্বরাপরায়ণ জাতি । আল্লাহর কসম ! আমি স্বতন্ত্র নবুওয়তের দাবী করি নি আর উম্মতের গন্ডির বাইরেও যাই নি বরং আমি খাতামান নবীঈনের কল্যাণধারা থেকে সর্গ্বীয় সুধা পান করেছি। আল্লাহ , ফিরিশতা , কিতাব ও রসূলগণের প্রতি আমি বিশ্বাস রাখি এবং আমি ক্বিবলামূখী হয়ে নামায পড়ি । অতএব আপনারা কেন আমাকে কাফের আখ্যায়িত করেছেন ? আপনারা কি বিশ্ব প্রভু-প্রতিপাল্পককে ভয় করেন না ? -হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ) সিররুল খিলাফা ১১৫ নম্বর পৃষ্ঠা

কে মুসলমান ?

বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ ( সাঃ ) মুসলমানের পরিচয় দিয়েছেন এই ভাবে - হযরত আনাস বিন মালেক রাঃ হতে বর্নিত । তিনি বলেন , রাসূল সাঃ এরশাদ করেছেন - যে ব্যাক্তি আমাদের মত নামায পড়ে , আমাদের কিবলাকেই কিবলা নির্ধারণ করে, এবং আমাদের জবাইকৃত পশুর মাংস খায় , সে মুসলমান । সহীহ বুখারী / হাদীস নং ৩৮৪

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাঃ থেকে বর্নিত । নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ , সে-ই প্রকৃত মুসলিম । আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে, সে-ই প্রকৃত হিজরতকারী । [ হাদিসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন ]



এখন আপনার ওপর দায়িত্বভার দিলাম- যারা মহান সৃষ্টিকর্তাকে আল্লাহ বলে , ক্বিবলামূখী হয়ে নামায পড়ে , কুরআনে বর্ণীত সকল কিছুতে বিশ্বাস স্থাপন করে , কুরআনের আয়াততো দূরে থাক একটি অক্ষর বা সামান্যতম পরিবর্তন কে কুফুরী মনে করে, সকল সাহাবাকে সম্মান করে তাদেরকে আপনি কি বলবেন? কাদিয়ানী কাফের নাকি আহমদী মুসলিম ?

কাদিয়ানী সম্পর্কিত আরো কিছু পোষ্ট

কাদিয়ানী মসজিদ দেখতে কেমন? কাদিয়ানীদের নামাজ পড়ার নিয়ম কি? কাদিয়ানী বই pdf ফ্রী ডাউনলোড এবং পড়ে জানুন কাদিয়ানী মতবাদ কি ?

Friday, December 13, 2019

কাদিয়ানী বই পড়লেই জানতে পারবেন কাদিয়ানী মতবাদ কি এবং এর আসল রহস্য

December 13, 2019 2

ফ্রিতে ডাউনলোড করুন কাদিয়ানী বই pdf

কাদিয়ানী অর্থাৎ আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আঃ) ৮৮টি পুস্তক বা বই রচনা করেছেন যা অন্যান্য মুসলিম ফেরকার লোকজন কাদিয়ানী বই নামে নামকরণ করে । নিম্নে দেওয়া কাদিয়ানী বই pdf বাটনে ক্লিক করে ফ্রিতে ডাউনলোড করে পড়ে দেখতে পারেন । কাদিয়ানী মতবাদ প্রচারে এই বইগুলো অন্যতম ভূমিকা রাখে । জ্ঞানপিপাসু যে কেউ এই বই নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পড়বে তাঁর আর কাদিয়ানী মতবাদ গ্রহণ করা ছাড়া উপায় থাকেনা সুতরাং পড়ার আগে সাবধান ! । MTA ( muslim television ahmadiyya ) তাদের মতবাদ প্রচারের অন্যতম টিভি মাধ্যম, যা ২৪ ঘন্টা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় আহমদী জামাতের সকল কর্মকাণ্ড প্রচার করে থাকে । এই বইগুলো মূলত উর্দূ ও আরবী ভাষায় রচিত । বর্তমানে পৃথিবীর ভাষায় অনূদিত হয়ে ছড়িয়ে পরেছে সারা জাহানে । আপনি পৃথিবীর যেই প্রান্তেই যাবেন সেই প্রান্তেই এই বই পাওয়া যাবে লোকাল ভাষায় । উনার রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বই হলোঃ

কিশতিয়ে-নূহ

কাদিয়ানী মতবাদ
কিশতিয়ে-নূহ
  • বই এর নাম - কিশতিয়ে-নূহ
  • প্রথম প্রকাশ - ৫ অক্টোবর ১৯০২
  • মূল ভাষা - উর্দু
  • বাংলা অনুবাদ - ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৮
  • বাংলা অনুবাদক - মৌলভী আব্দুর রহমান খাঁ বাঙ্গালী
  • বাংলা প্রকাশনায় - আহমদীয়া মুসলিম জামাত , বাংলাদেশ
    ৪ বকশী বাজার রোড , ঢাকা - ১২১১

ইসলামী নীতি-দর্শন

কাদিয়ানী বই
ইসলামী নীতি-দর্শন
  • বই এর নাম - ইসলামী নীতি-দর্শন
  • উর্দু নাম - ইসলামী উসূল কি ফিলসফী
  • প্রথম প্রকাশ - ১৮৯৬
  • মূল ভাষা - উর্দু
  • বাংলা অনুবাদ - ১৯৭৭
  • বাংলা প্রকাশনায় - আহমদীয়া মুসলিম জামাত , বাংলাদেশ
    ৪ বকশী বাজার রোড , ঢাকা - ১২১১

সিররুল খিলাফাহ ( খিলাফতের তত্ত্বকথা )

কাদিয়ানী মতবাদ
সিররুল খিলাফাহ ( খিলাফতের তত্ত্বকথা )
  • বই এর নাম - সিররুল খিলাফাহ ( খিলাফতের তত্ত্বকথা )
  • প্রথম প্রকাশ - ১৮৯৯
  • মূল ভাষা - আরবী
  • বাংলা অনুবাদ - ১৮৯৪
  • বাংলা প্রকাশনায় - আহমদীয়া মুসলিম জামাত , বাংলাদেশ
    ৪ বকশী বাজার রোড , ঢাকা - ১২১১

মসীহ হিন্দুস্তান মে { ভারতবর্ষে ঈসা (আঃ) }

কাদিয়ানী বই
মসীহ হিন্দুস্তান মে { ভারতবর্ষে ঈসা (আঃ) }
  • বই এর নাম - মসীহ হিন্দুস্তান মে { ভারতবর্ষে ঈসা (আঃ) }
  • প্রথম প্রকাশ - এপ্রিল ১৮৯৯
  • মূল ভাষা - উর্দু
  • বাংলা অনুবাদ - ২০০৪
  • বাংলা অনুবাদক - মাওলানা আহমদ সাদেক মাহমুদ
  • বাংলা প্রকাশনায় - আহমদীয়া মুসলিম জামাত , বাংলাদেশ
    ৪ বকশী বাজার রোড , ঢাকা - ১২১১

ডাউনলোড লিঙ্ক

Download Now

কাদিয়ানী সম্পর্কিত অন্যান্য পোষ্ট লিঙ্ক

কাদিয়ানী মসজিদ দেখতে কেমন? কাদিয়ানীদের নামাজ পড়ার নিয়ম কি?

কাদিয়ানী মসজিদ দেখতে কেমন? কাদিয়ানীদের নামাজ পড়ার নিয়ম কি?

December 13, 2019 10

কাদিয়ানী মসজিদঃ

পৃথিবীর ২০৬ টি দেশে কাদিয়ানী মসজিদ রয়েছে। কাদিয়ানীদের প্রধান মসজিদ ভারতের কাদিয়ানে হলেও কাদিয়ানীদের নামাজ এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হয় লন্ডনের বায়তুল ফুতুহ মসজিদ থেক। তাঁদের বর্তমান খলিফা হযরত মির্যা মাসরুর আহমদ ( আই ) ( ৫ম ) প্রতি শুক্রবারে পৃথিবীর সকল কাদীয়ানীর উদ্দেশ্য বয়ান দিয়ে থাকেন; যা পুরো পৃথিবীর কাদিয়ানীরা একযোগে বাস্তবায়ন করে থাকে। কাদিয়ানী বিরোধীরা কাদিয়ানীদের শক্তির উৎস খুঁজে পাইনা, তাঁরা সব সময় বলে থাকে ইংরেজ সরকার সহায়তা দিয়ে থাকে কিন্তু আমি মনে করি তাঁদের শক্তি হচ্ছে তাঁদের খলিফা ; তাঁরা সকলে তাঁদের খলিফার কথা মত চলে, যা পৃথিবীর অন্য কোন ধর্মে নেই । নিচে তাঁদের কয়েকটি মসজিদ এর ছবি সহ বর্ননা দিলাম।

জাপানের প্রথম কাদিয়ানী মসজিদ

Trulli
জাপানের প্রথম কাদিয়ানী মসজিদ.
  1. মসজিদের নাম- বায়তুল আহাদ
  2. দেশ - জাপান
  3. এলাকা - নাগোয়া
  4. উদ্বোধন - ২০ নভেম্বর ২০১৫
  5. উদ্বোধক - হযরত মির্যা মাসরুর আহমদ ( আই )

ইংল্যান্ডের প্রধান মসজিদ

Trulli
ইংল্যান্ডের প্রধান মসজিদ
  1. মসজিদের নাম- বায়তুল ফুতুহ
  2. দেশ - ইংল্যান্ড
  3. এলাকা - লন্ডন
  4. উদ্বোধন - ১৪ অক্টোবর ২০০৭

কাদিয়ানী মসজিদ মসজিদ আকসা

কাদিয়ানীদের নামাজ
মসজিদ আকসা - কাদিয়ান
  1. মসজিদের নাম- মসজিদ আকসা
  2. দেশ - ভারত
  3. এলাকা - পাঞ্জাব - কাদিয়ান

কাদিয়ানীদের নামাজ পড়ার নিয়ম কি?

বিশ্বের সুন্নী সম্প্রদায় যেভাবে নামজ পড়ে কাদিয়নীদের নামাজ ঠিক সে রকম, কোন ধরণের পার্থক্য নেই । তাঁদের আযান সুন্নী সম্প্রদায়ের আযানের মত এক ও অভিন্ন । তাঁদের ওযুর নিয়ম সুন্নী সম্প্রদায়ের ওযুর নিয়মে । তাঁদের কিবলা বায়তুল্লাহ শরীফ এবং নামাজে সূরার উচ্চারণ আরবীতে । কাদিয়নীদের নামাজ (ফরজ) দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত- ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব এবং এশা । এছাড়াও তাঁরা নিয়মিত তাহাজ্জুত নামাজ সহ আরো অনেক নফল নামজ পড়ে থাকে ।

কাদিয়ানী সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট

কাদিয়ানী কারা , কাদিয়ানীদের আকিদা সমূহের বিস্তারিত সঠিক ব্যাখা



Monday, December 9, 2019

কাদিয়ানী কারা , কাদিয়ানীদের আকিদা সমূহের বিস্তারিত সঠিক ব্যাখা

December 09, 2019 6

কাদিয়ানী কারা

কাদিয়ানী কারা, তাঁরা কি কি আকিদা মানে, বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের সংখ্যা কত, কাদিয়ানীদের মসজিদ দেখতে কেমন?, তাঁরা নামাজ পড়ে নাকি উপাসনা করে বিস্তারিত জানতে পড়তে থাকুন।

কাদিয়ানী কারা
কাদিয়ানী কারা

আসুন জেনে নেই কাদিয়ানী কাকে বলে? কাদিয়ানী কারা বা কাদিয়ানী কাকে বলে তা বুঝতে হলে একটু মুসলিম ফেরকার আলোচনা করতে হবে। আমরা মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত। আমরা কেউ বলি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মাটির তৈরি আবার কেউ বল তিনি নূরের তৈরি। এই তর্কে জড়িয়ে আমরা মারামারি করি, এক দল আরেক দলকে কাফের বলি। এইযে দলাদলি ও ভাগ - উপভাগ - এই গুলো হল ইসলামের ফেরকা। আমরা মুসলিম সম্প্রদায় যে বিভিন্ন দল ও উপদলে ভাগ হয়ে যাব তা নবী করিম সাঃ ১৫০০ বছর আগেই বুঝেছিলেন। তাই তিনি বলে ছিলেন -

নিশ্চয় বনী ইসরাঈলরা ৭১ দলে বিভক্ত হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৭০ দল ধ্বংস হয়ে গেছে এবং একটি দল নাজাত পেয়েছে।আর আমার উম্মত অচিরেই ৭২ দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে ৭১ দল ধ্বংস হবে ( জাহান্নামে যাবে ) এবং একটি দল মুক্তিপ্রাপ্ত হবে। ছাহাবাগণ বলেন - মুক্তিপ্রাপ্ত দল কোনটি? রসূল (সাঃ) বলেন- তারা একটি দল, তারা একটি দল। - আল হাদিস সূত্রঃ ইসলামিক অনলাইন মিডিয়া
নবী করিম সাঃ এর এই হাদিসের প্রমাণ হলাম আমরা - মুসলিম সম্প্রদায়। আমরা আজ ৭২ ফেরকায় বিভক্ত। এই ৭২ ফেরকার একটি হলো - কাদিয়ানী সম্প্রদায়।


কাদিয়ানীদের আকিদা বা ধর্ম বিশ্বাস

কাদিয়ানীদের কলেমা- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁদের কিবলা হলো -মক্কার বায়তুল্লাহ শরীফ মানে মসজিদুল হারাম। তাঁদের কিতাব - হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপর নাজিল হওয়া সেই মহা পবিত্র গ্রন্থ - আল কোরআন। তাঁদের নামাজ - পাঁচ ওয়াক্ত। রোযা রাখার মাস - আরবি মাসের - রমজান মাস। ঈদুল ফিতর- শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখে। ঈদুল আযহা - বাংলাদেশের অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায় যে দিন ঈদুল আযহা পালন করে ,ঠিক সেই দিন বাংলাদেশের কাদিয়ানী সম্প্রদায় ঈদুল আযহা পালন করে।


মহান আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে সকল জিনিস বা দ্রব্য কে হারাম বলেছেন কাদিয়ানীরা সে সকল দ্রব্য কে হারাম মানে এবং মহান আল্লাহ ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যে সকল জিনিস বা দ্রব্য কে হালাল বলেছেন কাদিয়ানীরা সে সকল দ্রব্য কে হালাল মানে। আল্লাহ ও রাসুল কর্তৃক বর্ণীত হজ্ব ও যাকাতের বিধানুসারে কাদিয়ানীরা তা পালন করে। এবার আসুন তাঁদের ( কাদিয়ানীদের) আকিদা বা ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে তাঁদের ধর্ম প্রবক্তা হযরত মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আঃ) কি বলেছেন তা জানি-

আমরা ঈমান রাখি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নাই এবং সৈয়্যদনা হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসুল এবং খাতামুল আম্বিয়া । আমরা ঈমান রাখি যে ফিরিশতা, হাশর, জান্নাত এবং জাহান্নাম সত্য এবং আমরা আরও ঈমান রাখি যে কুরআন শরীফে আল্লাহতা'লা যাহা বলিয়াছেন এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম হইতে যাহা বর্ণিত হইয়াছে উল্লিখিত বর্ণনানুসারে তাহা সবই সত্য। আমরা এও ঈমান রাখি, যে ব্যাক্তি এই ইসলামী শরীয়ত হইতে বিন্দু মাত্র বিচ্যুত হয় অথবা যে বিষয়গুলি অবশ্যকরণীয় বলিয়া নির্ধারিত তাহা পরিত্যাগ করে এবং অবৈধ বস্তুকে বৈধ করণের ভিত্তি স্থাপন করে, সে ব্যাক্তি বে-ঈমান এবং ইসলাম বিরোধী। আমি আমার জামা'তকে উপদেশ দিতেছি যে, তারা যেন বিশুদ্ধ অন্তরে পবিত্র কলেমা " লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ" এর উপর ঈমান রাখে এবং এই ঈমান লইয়া মরে। কুরআন শরীফ হইতে যাহাদের সত্যতা প্রমাণিত, এমন সকল নবী ( আলাইহিমুস সালাম ) এবং কিতাবের উপর ঈমান আনিবে। নামাজ, রোযা, হজ্জ ও যাকাত এবং এতদ্ধব্যাতীত খোদাতা'লা এবং তাহার রসুল কর্তক নির্ধারিত কর্তব্যসমূহকে প্রকৃতপক্ষে অবশ্য-করনীয় মনে করিয়া, যাবতীয় নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে নিষিদ্ধ মনে করিয়া সঠিক ভাবে ইসলাম ধর্ম পালন করিবে। মোটকথা, যে সমস্ত বিষয়ের উপর আকিদা ও আমল হিসাবে পূর্ববর্তী বুযুর্গাণের "ইজমা" অর্থাৎ সর্ববাদি-সম্মত মত ছিল এবং যে সমস্ত বিষয়কে আহলে সুন্নত জামাতে'র সর্ববাদি-সম্মত মতে ইসলাম নাম দেওয়া হইয়াছে, সেই সব সর্বতোভাবে মান্য করা অবশ্য কর্তব্য। যে ব্যাক্তি উপরোক্ত ধর্মমতের বিরুদ্ধে কোন দোষ আমাদের প্রতি আরোপ করে, সে তাকওয়া বা খোদাভীতি এবং সততা বিসর্জন দিয়া আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটনা করে। কিয়ামতের দিন তাহার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ থাকিবে যে, কবে সে আমাদের বুক চিরিয়া দেখিয়াছিল যে, আমদের মতে এই অঙ্গীকার সত্বেও অন্তরে আমরা এই সবের বিরোধী ছিলাম? - হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আঃ) সূত্রঃ মহা-সুসংবাদ [ ৫০ নম্বর পৃষ্ঠা ]
এই হলো কাদিয়ানীদের ধর্ম বিশ্বাস বা আকিদা।

এবার আসুন জেনে নেই কাদিয়ানীদের সম্পর্কে আলেমগণ কি বলেন? কাদিয়ানী সম্প্রদায় কেন মুসলিম নয়?

উপমহাদেশের অনেক বিখ্যাত আলেম ও তাঁদের দল কাদিয়ানীদেরকে কাফের বা অমুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করে। তাঁদের দাবী কাদিয়ানীরা হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) কে আখেরি নবী বা শেষ নবী হিসেবে মানেনা।তাঁদের আরো অভিযোগ হলো - হযরত মির্যা গোলাম আহমদ আঃ কে কাদিয়ানীরা নবী হিসেবে মানে , তাই কাদিয়ানীরা কাফের। কাদিয়ানীদেরকে আলেমগণ বৃটিশদের চর বা সাহায্যকারী বলে থাকেন।

আলেমগণের অভিযোগ খণ্ডনে কাদিয়ানীরা কি বলে ?

কাদিয়ানীরা দাবি করে যে - আমরা মনে প্রাণে অন্তঃকরণে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসুল এবং খাতামুল আম্বিয়া । তাঁর পরে আর কোন শরীয়ত বাহী নবী নেই। বৃটিশরা হচ্ছে খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী , আর তাঁদের নবী হচ্ছে - হযরত ঈসা আঃ , খৃষ্টানরা দাবী করে যে- হযরত ঈসা আঃ কে আল্লাহ পাক আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন; অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ও একথা সমর্থন করেন কিন্তু আমরা আহমদীরা বলি যে - হযরত ঈসা আঃ মারা গেছেন । পাঠক আপনিই বলুন - বৃটিশদের চর কাদিয়ানীরা নাকি যারা অভিযোগ করে তাঁরা। আর আমরা আহমদী ; কাদিয়ানী নয়, ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাসপূর জেলার কাদিয়ান নামক গ্রামে যারা বসবাস করে - তাঁরা কাদিয়ানী, কাদিয়ানি কোন ধর্মের নাম নয়- একটা গ্রামের নাম আর যারা সে গ্রামে যারা বসবাস করে তাঁরা সবাই কাদিয়ানী। ধর্ম যাইহোক না কেন - হিন্দু, মুসলিম, খৃষ্টান বা শিখ

কাদিয়ানী ও অন্যান্য মুসলিমের কিছু পার্থক্য

মানদণ্ড কাদিয়ানী ফিরকার লোকজন অন্যান্য ফিরকার লোকজন
নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত পাঁচ ওয়াক্ত
রোযা পুরো রমজান মাস পুরো রমজান মাস
কিতাব মহাগ্রন্থ আল কুরআন মহাগ্রন্থ আল কুরআন
জুম্মার খুৎবা মাতৃভাষায় আরবিতে
কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ বৈধ
যৌতুক নিষিদ্ধ বৈধ
মাজার জিয়ারত নিষিদ্ধ বৈধ
জিহাদ নিষিদ্ধ বৈধ
নেতৃত্ব সকল কাদিয়ানীর একজন খলিফা খলিফা নেই
বায়তুল মাল আছে নেই
বাৎসরিক ইসলামী বাজেট আছে নেই
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে শেষ নবী মানে * মানে
হযরত গোলাম আহমদ আঃ কে ইমাম মাহদী হিসেবে মানে মানে না
হযরত ঈসা আঃ আকাশে আছেন মানে না মানে

* হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে কাদিয়ানীরা সম্মানের দিক থেকে সর্বোচ্চ ও সর্ব শেষ নবী হিসেবে মানে এবং মহাগ্রন্থ আল কুরআন কে সর্ব শেষ আসমানী কিতাব হিসেবে মানে কিন্তু রিসালাতের দরজা বন্ধ এ কথা কাদিয়ানীরা মানে না ।
** কাদিয়ানী ফেরকার এই বিশ্বাস যে - হযরত ঈসা আঃ অন্যান্য নবী ও রাসুলদের মত মারা গেছেন।

কাদিয়ানীদের ইতিহাস

কাদিয়ানীরা যাকে ইমাম মাহদী ও উম্মতী নবী হিসেবে মানে সেই মহা পুরুষ হযরত মির্যা গোলাম আহমদ আঃ ভারতে পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাসপূর জেলার কাদিয়ান নামক গ্রামে ১৯৩৫ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এ কারনেই উনার প্রতিষ্ঠিত ফেরকার বা জামাতের অনুসারীদেরকে অন্যান্য মুসলিম ফেরকার অনুসারীরা কাদিয়ানী নামে ডাকে ঠিক যে রকম সকল ইহুদী ফেরকার অনুসারীরা হযরত ঈসা আঃ এর অনুসারীদেরকে নাসারা নামে ডাকে কারণ হযরত ঈসা আঃ বেথেলহেমের নাসারা নামক গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। কাদিয়ানী ফেরকার যাত্রা শুরু হয় ২৩শে মার্চ ১৮৮৯ সালে। ঐ দিন হযরত মির্যা গোলাম আহমদ আঃ ইমাম মাহদী হিসেবে বয়াত নেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে কাদিয়ানী ফিরকা বিশ্বের ২০০ চেয়ে অধিক দেশে বিস্তৃত। আফ্রিকা মহাদেশে এই ফেরকা ব্যাপক জনপ্রিয়। এই হলো সংক্ষিপ্ত আকারে কাদিয়ানীদের ইতিহাস


বাংলাদেশে কাদিয়ানীদের সংখ্যা বিস্তার করল যেভাবে

আসুন এবার জেনে নেই কাদিয়ানী কারা , বাংলাদেশে কার মাধ্যমে কাদিয়ানীদের সংখ্যা বিস্তার করল, ১৯০৫ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা নিবাসী আহমদ কবির নূর মোহাম্মদ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হযরত মির্যা গোলাম আহমদ এর হাতে বয়াত গ্রহণ করে আহমদী হন। এর পরে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার রঈস উদ্দিন খাঁ আহমদী হোন , ১৯০৯ সালে বগুরা নিবাসী শিক্ষার্থী মোবারক আলী কাদিয়ান গিয়ে বয়াত গ্রহণ করে আহমদী হোন । এই তিন জনের কেউ বাংলাদেশে আহমদীয়া জামাত প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। বাংলাদেশে আহমদীয়া জামাত প্রতিষ্ঠা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিবাসী মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ। তিনি যখন আহমদী হন তখন তিনি বাংলাদেশের আলেম সমাজের শিরোমণি ছিলেন আর একারণেই দলে দলে উনার হাতে বয়াত গ্রহণ করে আহমদী হয়ে যান। বর্তমানেও ব্রাহ্মনবাড়ীয়াতেই আহমদীদের সংখ্যা বেশি। আশা করি বুঝতে পারছেন - কাদিয়ানী কারা

কাদিয়ানী সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট

কাদিয়ানী মসজিদ দেখতে কেমন? কাদিয়ানীদের নামাজ পড়ার নিয়ম কি?

Monday, April 23, 2018

আইয়ামে জাহেলিয়াত বনাম আধুনিক বিশ্ব

April 23, 2018 0

আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগ কি?

আমাদের নবী ( বিশ্ব নবী ) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের পূর্বের ও ঈসা (আঃ) এর মৃত্যুর পরের সময়টাকে পণ্ডিত মহাশয়েরা আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগ মানে অন্ধকারাছন্ন বা কুসংস্কারাছন্ন যুগ নামে অবিহিত করেছেন | কারণ হিসেবে তাঁরা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন - ১* মেয়েদেরকে জীবন্ত অবস্থায় মাটির গর্তে পুতে ফেলা | ২* প্রকাশ্যে ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা | ৩* সুদ কে সামাজিক ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া | ৪* মদ সহ সকল নেশা জাতীয় দ্রব্য কে স্বাস্থ্যকর দ্রব্যর মতই একত্রে গ্রহণ করা এবং আরও অনেক অসামাজিক বিষয় কে তৎকালীন মানুষেরা সামাজিক ভাবেই গ্রহণ করত |



আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের মানুষ আল্লাহ বা সৃষ্টি কর্তাকে মানতনা একথা ঠিক নয়, সে সময়ে মানুষ দেবদেবীর পূজার মাধ্যমে আল্লার কাছে তাঁদের দাবী - দাওয়া পাঠাত । এই বিষয়ে আল্লাহ পাক কুরআনে বলেন-" তারা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করত এই ভেবে যে, এই দেবদেবী গুলো আল্লহর কাছে তাঁদের হয়ে সুপারিশ করবে এবং তাদের দুনিয়াবী বিভিন্ন স্বার্থ হাসিলে সহায়ক হবে ( ইউনুসঃ১৮) " এই থেকে প্রমাণ হয় যে তৎকালীন আরবরা সৃষ্টি কর্তা কে মানত ।


তৎকালীন আরবরা সামাজিক ভাবে অনেক খারাপ অবস্থায় ছিল , তাদের মনে - মায়া-মমতা , ভ্রাতৃত্ববোধ , সহানুভূতি এবং পাপ-পূন্যবোধ ছিলনা । তারা যে কোন খারাপ কাজ করে প্রকাশ্য প্রচার করতে গর্ববোধ করত । তারা যেকোন তুচ্ছ ঘঠনাকে কেন্দ্র করে মাসের পর মসা যুদ্ধ চালাত । মানুষ হত্যা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার । তারা যুদ্ধের পরে মৃত ব্যাক্তির লাশের নাক , কান গলা কেট বিকৃত করে উল্লাস করত ।


আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগ
আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগ

আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে মেয়েদেরকে জীবন্ত অবস্থায় মাটির গর্তে পুতে ফেলত আর আধুনিক বিশ্ব কি করে

এখন আসুন আধুনিক যুগে কি হয় হালকা -পাতলা আলোকপাত করি- ১* আমরা জানি স্বামী - স্ত্রীর মধুর মিলনের মাধ্যমেই সন্তান এই পৃথিবীর আলো দেখে ( যদি আল্লাহ তাদের কপালে সন্তান ভাগ্য দিয়ে থাকেন তবে ! ) | আজকাল এই স্বামীরা সন্তান না নেওয়ার জন্য কনডম ব্যবহার করেন | যারা কনডম ব্যবহার করেন না তাদের স্ত্রীরা পিল ( মায়া বড়ি ) খেয়ে থাকেন সন্তান গর্ভে না আসার জন্য | তাঁরা কত বড় হতভাগা যারা জানতেই পারলনা মহান আল্লাহ তাদের কপালে সন্তান লাভের সুভাগ্য দিয়েছেকিনা ? অবশ্য তারা ব্যতীত যারা বিয়ের আগেই দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়েছে ( নাওযুবিল্লা ) | যদি কোন কারনে বা আল্লাহর কুদরতে তাদের ( স্বামী - স্ত্রীর ) গ্রহণ করা পদ্ধতি মিস্টেক করে সন্তান গর্ভে এসে যায় তাহলে পাকিস্তানি ট্যাবলেট খেয়ে গর্ভপাত করান ( বাংলাদেশীরা ) |



এর পরও যদি সন্তান গর্ভে বেচে যায় তখন তার ( সন্তানের ) পিতা - মাতারা হাসপাতালে গিয়ে অস্রপচারের মাধ্যমে গর্ভপাত করান , যে পদ্ধতি কে আধুনিক বিশ্ব বলে Abortion | এই পদ্ধতিতে সন্তান হত্যা সামাজিক এমন কি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত | ক্লিনিক গুলো রমরমা ব্যবসা করে মানব হত্যা করে |আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগে শুধু মাত্র কন্যা সন্তান হত্যা করা হত আর আধুনিক যুগে পত্র - কন্যা উভয় কে হত্যা করা হচ্ছে ? এই যুগের নাম কি হতে পারে একটু বলবেন কি ?



আধুনিকবিশ্বে ব্যভিচার কিভাবে হয়

এবার আসা যাক ব্যভিচার প্রশ্নে | অপরাধ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীদের মতে পৃথিবীতে যত মার্ডার হয় তার বেশির ভাগের কারন হলো ব্যভিচার | এই ব্যভিচারের কারনে বেশি হত্যা হয় এশিয়া মহাদেশে কারন ইউরোপ - আমেরিকায় ব্যভিচারের নাম হলো - Live Together | ইউরোপ - আমেরিকানরা বিয়ে না করেই সহবাস করতে পারে ;সন্তান জন্ম দিতে পারে এমনকি মারতেও পারে সকলের মত | এশিয়াতে এ সুবিধা নেই তাই ব্যভিচার করে ধরা পরলে কানাঘুষা হয় , হাতাহাতি হয় , মারামারি হয় এমনকি মার্ডার হয় | এর ফলে আদালত পাড়ার বাসিন্দারা বেশ কালো টাকা হাতিয়ে সাদা করতে পারেন | কারন অবৈধ বড়লোকের বখাটে ছেলেরাই হত্যা ও ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকে তাই সমাজ সুবিচার পাইনা | সুবিচার আজ কাল টাকার ব্যগে বন্দি |



আমেরিকান সেনারা দল বেঁধে ভিয়েতনামের নারীদের ধর্ষণ করেছে , পাকিস্তানী সেনারা বাঙ্গালী নারীদের ধর্ষণ করেছে গণহারে , মায়ানমারের সেনা ও সাধারন পাবলিক মিলে গণহারে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ ও পাশবিক অত্যাচার করতেছে | আমাদের দেশে ব্যভিচার করে ধরা পরলে তার (ব্যভিচারীর) অভিভাবকরা প্রায়শঃ বলেন " বয়সের চুরি সবাই করে " | তাহলে ব্যভিচার কি আমাদের দেশে সামাজিক ভাবে স্বীকৃত নয় ? | অবাধ ব্যভিচারের নাম আপনি কি দিবেন একটু জানাবেন প্লিজ


|

কিভাবে আপনি সুদ খান জানেন কি ?

সুদ নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা তবু একটুখানি অবতারণা করব |

যতই হোন মুল্লা - মুন্সী , পাদ্রী -পুরোহিত সুদ আপনাকে ভক্ষণ করিতেই হইবে |
আধুনিক দুনিয়া সুদের দুনিয়া | আপনি না চাইলেও আপনাকে সুদ নিতে হবে ; দিতে হবে | আমরা এখন সরল অঙ্কে পরিণত হয়েছি - বন্ধনীর কাজ শেষ না করে যোগ - বিয়োগ করতে পারবনা এই দুনিয়াকে আমরা আধুনিক বিশ্ব বলি ! কত মহান ব্যক্তি এই পৃথিবীতে আছেন , কত ধর্ম আর কত শত ধর্ম গুরু , আছে কত সহস্র বিদ্যালয় - মহাবিদ্যালয় আর বিশ্ববিদ্যালয় আরও আছে অজস্র মসজিদ মন্দির গির্জা - তবু এই বিশ্ব আজ স্টেফিন হকিং এর কৃষ্ণ গ্রহে হারিয়ে গেছে |
আজকের আধুনিক বিশ্ব আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের চাইতে খারাপ পর্যায়ে চলে গেছে ।
আমি এই যুগের নাম দিলাম - কৃষ্ণকাল |

আরো পড়ুনঃ

বাপ-দাদার ধর্মই প্রকৃত সত্য ধর্ম নয় , ইসলাম ধর্ম সত্য কি ?

বাপ-দাদার ধর্মই প্রকৃত সত্য ধর্ম নয় , ইসলাম ধর্ম সত্য কি ?

April 23, 2018 0

ইসলাম ধর্মের এই করুনাবস্থার জন্য কে দায়ী ? বা ইসলাম কি সত্য ধর্ম

পরম করুণাময় আল্লাহ কে সাক্ষী রেখে শুরু করছি। আমরা মুসলিমরা আজ চরম সংকটময় সময় অতিবাহিত করছি। ইসলাম ধর্ম আজ ঘৃণার জোয়ারে স্রোত মান। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ইসলাম ধর্ম কে অবমাননা করা হচ্ছে ; অধিকাংশ দেশেই ইসলাম ধর্ম আক্রমণের শিকার হচ্ছে । শুধু যে মুসলিমদের উপর – শারীরিক,মানসিক ও অর্থনৈতিক অত্যাচার হচ্ছে তা নয় ; পত্র-পত্রিকা, লিফলেট , হ্যান্ডবিল, বই-পুস্তক, টিভি চ্যানেল ও ইন্টারনেট এর মাধ্যমে ইসলাম বিরোধী তত্ত্ব ও মনগড়া বিষোদ্গার প্রচার করে ইসলামের মূলে আঘাত করা হচ্ছে । মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে - আসলেই ইসলাম কি সত্য ধর্ম?


সত্য ধর্ম বা ইসলাম সত্য ধর্ম কি?
বাপ দাদার ধর্মই সত্য ধর্ম নয়

পৃথিবীর কোথাও কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হলে মোড়ল রাষ্ট্রের হর্তা – কর্তারা এর হোতা হিসেবে চিহ্নিত করছে –মুসলিমদেরকে । মিডিয়া গুলো বড় বড় শিরোনামে ইসলামি সন্ত্রাসবাদ প্রচার করছে। এতেকরে ইসলাম ধর্ম কলঙ্কিত হচ্ছে । অন্যান্য ধর্মানুসারীদের কাছে ইসলাম ধর্ম মানে হচ্ছে – অশান্তি, উগ্র, সন্ত্রাসী, মৌলবাদী ও বোমাবাজি । ইসলাম ধর্মের এই করুনাবস্তার জন্য যতটুকু ইহুদি – খৃষ্টানরা দায়ী তার চেয়ে বেশি দায়ী- ইসলাম ধর্মের নেতারা। আমার উপর রাগ করবেননা পাঠক । আমি হিন্দু, খৃষ্টান বা ইহুদী নয়; আমি একজন সাধারণ মুসলমান । কলেমা, নামাজ, রোযা,হজ্জ ও যাকাতে আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে। আমি সত্যই বলছি- ইসলাম ধর্মের সর্বনাশ ইহুদি- খৃষ্টানদের চাইতে মুসলমান নেতারাই বেশি করেছে;করছে। আমার কথার সত্যতা পেতে হলে চলুন পেছনে ফিরে যাই:-
আমি আলোচনা শুরু করছি কলেমা দিয়ে। অন্য ধর্মাবলম্বী কোন নর-নারী যদি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাই তাহলে মনে- প্রাণে বিশ্বাস করে পাঠ করতে হবে-“ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদূর রাসূলুল্লাহ”। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নাই এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। মক্কার মূর্তি পূজারিরা, তৎকালীন ইহুদি- খৃষ্টানরা এই কলেমাকে সহজে গ্রহণ করতে চাইনি এবং এখনও সহজে গ্রহণ করতে পারেনা; তাদের কষ্ট লাগে,আঘাত লাগে বাপ- দাদার ধর্মে ।



ধর্ম ত্যাগ করা যায়না ! বা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করা যায় কি?

বাপ-দাদার ধর্মের শেকড়ে আঁকড়ে থাকার নামই- গোঁড়ামি । মানুষ মাত্রই মনে করে-“জন্ম সূত্রে যে ধর্ম পাওয়া যায় তাই সঠিক ; অন্য ধর্ম গুলি মিথ্যা । একটু ভেবে দেখুন- আসলে কি তা ঠিক ?। যদি ঠিক ই হয় তাহলে আমরা কিভাবে মুসলমান হলাম ?। আমাদের পূর্বপুরুষ যারা (যাদের কাছ থেকে ইসলাম ধর্ম জন্ম সূত্রে লাভ করে আসছি) তাঁরা কি জন্মানোর সময় মুসলমান ছিল নাকি তাঁরা ইসলামের উদারতা, মহানুভবতা আর শান্তি – শৃঙ্খলা দেখে, মুগ্ধ হয়ে অন্য ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছিল ?। যদি শেষোক্ত কথাটি সঠিক হয় তাহলে আমার সাথে আপনারা নিশ্চয় একমত হবেন যে- বাপ-দাদার ধর্ম প্রকৃত সত্য ধর্ম নয় ।



যুগে যুগে আল্লাহতালা ধর্ম কে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করেছেন। বাপ-দাদার ধর্ম কে সত্য মনে করেই – ইহুদি সম্প্রদায়ের সন্তানরা ইহুদি থাকছে,হিন্দু সম্প্রদায়ের সন্তানরা হিন্দু থাকছে আর মুসলিম সম্প্রদায়ের সন্তানরা মুসলিম থাকছে। প্রত্যেকেই নিজের ধর্ম কে সত্য মনে করছে। এরকম মনে করার কারণ কি? কারণ একটাই - তারা (সন্তানরা ) সাবালক বা স্বীয় বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার আগেই বাপ-দাদার ধর্মে নিক্ষিপ্ত হন বা বলা যেতে পারে জন্ম সূত্রে বাপ-দাদার ধর্ম লাভ করেন। সন্তানরা ছোট থেকে বড় হয় জন্ম সূত্রে লাভ করা ধর্মের নিয়ম – কানুনে; তাই বড় হয়ে বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার পরেও এমনকি বুদ্ধিজীবী হলেও ধর্মের মায়া ছাড়তে পারেনা; ধর্মীয় গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠতে পারেনা।



ধর্মীয় গোঁড়ামি বা ইসলাম ধর্ম

এই ধর্মীয় গোঁড়ামি পরবর্তীতে মৌলবাদে রূপ নেয়, যা জন্মায়-ধর্মের নামে সন্ত্রাস; ধর্মকে করে কলঙ্কিত। নিজ নিজ ধর্মের অনুসারীরা নিজ নিজ ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ও সত্য মনে করার কারণেই সজ্ঞাত সৃষ্টি হয়। তাই ধর্মীয় মৌলবাদের মূলোৎপাটনের জন্য ভিন্ন ধর্মানুসারীদের প্রতি সহানুভূতি ও সত্য গ্রহণের অধিকার থাকতে হবে। যে অধিকার হবে প্রথম এবং প্রধান অধিকার।ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম হলেও মোল্লাদের বাড়া বাড়ি ও অজ্ঞতার কারণে বিশ্ব বাসী মুসলমানদের কে জঙ্গি ও বন্য হিসেবে জানে ।



বাপ-দাদার ধর্ম যে প্রকৃত সত্য ধর্ম নয় একথা অন্য ধর্মানুসারীরা না মানলেও মুসলমানরা মানে; আর যে মানেনা সে তৎকালীন মূর্তি পূজারী বা ইহুদি – খৃষ্টানদের সমতুল্য । একমাত্র মুসলমানরাই জানে অন্য ধর্মের কত-লোক ইসলাম ধর্মে এসে শান্তি খুঁজে। যদি বলি (নাউযুবিল্লাহ) হযরত মুসা(আঃ) মিথ্যা বা ভণ্ড তাহলে আমার ধর্মই থাকবেনা; কারণ মহা-গ্রন্থ আল-কুরানে যত নবী- রাসূলের নাম রয়েছে তাঁরা সবাই সত্য নবী এবং আল্লাহর প্রিয় পাত্র। যদি তাই হয় তাহলে ইহুদীদেরকে মানে মুসা(আঃ) এর অনুসারীদেরকে আমাদের মোল্লা – মৌলানারা কাফের বলে কিভাবে?


ইহুদীদেরকে মানে মুসা(আঃ) এর অনুসারীদেরকে আমাদের মোল্লা – মৌলানারা কাফের বলে কিভাবে?



যদি আমাদের মোল্লা- মৌলানাদের কথা সত্য হয়; তাহলে কুরআনের কথা মিথ্যা (নাউজুবিল্লা) । কুরআনের কথা মিথ্যা হতে পারেনা। ইহুদীরাই মিথ্যা হয়ে গেছে, ,তারা একসময় সত্য ও সঠিক পথের অনুসারী ছিল;তারা তাদের নবী হযরত মুসা(আঃ) এর ভবিষ্যৎ বানী অনুযায়ী ঈসা(আঃ)কে মান্য করেনি, তারা সত্যকে পায়ে ঠেলে মিথ্যা কে আঁকড়ে ধরে আছে। ইহুদিরা বাপ-দাদার ধর্মকে সত্য মনে করছে আর আল্লাহ প্রিয় নবী হযরত ঈসা (আঃ ) কে ভণ্ড, প্রতারক ও জাদুকর বলে গালাগালি দিচ্ছে । হযরত ঈসা (আঃ) কে বেশি অপদস্থ করেছে তৎকালীন ইহুদি ধর্মের হর্তা – কর্তারা । ইহুদি মৌলানারা ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা ( একত্ববাদ ) ভুলে গিয়ে সত্য নবী হযরত ঈসা (আঃ) এর বিরোধিতা করেছে; এখনও করছে।



ইহুদি ধর্মের নেতারা সাধারণ ইহুদিদেরকে বাপ-দাদার ধর্মে আঁকড়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। যারা এ নির্দেশ উপেক্ষা করে, অমান্য করে হযরত ঈসা (আঃ) কে মান্য করেছে,অনুসরণ করেছে; তাদের উপর ইহুদি সমাজপতিরা চালিয়েছে- শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতন। যা ছিল সত্যর উপর জুলুম। এই অত্যাচারের ফল ভোগ করেছে ইহুদিরা; এক হিটলারই বুঝিয়ে দিয়েছে অত্যাচার কত প্রকার ও কি কি। একটি আঘাত সহস্র আঘাত হয়ে ফিরে এসেছে ইহুদীদের উপর। যা ছিল পূর্বসূরিদের পাপের ফল বা মৌলবাদের বিচার। আর একারণেই আমাদের মোল্লা – মৌলানারা তাদেরকে কাফের বলতে পারে।



ইহুদি সমাজপতিদের রক্তচক্ষু কে ভয় না করে যারা বাপ-দাদার ধর্ম কে পায়ে ঠেলে হযরত মুসা (আঃ) এর ভবিষ্যৎ বানীর সত্যতা উপলব্ধি করে হযরত ঈসা (আঃ) এর ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল – তারাই মূলত প্রকৃত ইহুদি ও সত্যিকারের মুসা ভক্ত।



আর যারা হযরত ঈসা (আঃ) কে অনুসরণ না করে হযরত মুসা (আঃ) এর প্রেমিক, আল্লাহ প্রেমিক হতে চেয়েছিল তারা আসলে ভণ্ড, কপট ও সমাজ-পূজারি। তারা ধর্মের নামে বিজনেস শুরু করে দিয়েছে; তাই তারা আল্লাহর সত্যি নবী হযরত ঈসা (আঃ) কে চিনতে পারেনি অথবা চিনেও না চেনার ভান করছে- ধর্ম বিজনেস এ লস হবে বলে। আজও তারা হযরত ঈসা (আঃ) কে গালাগালি করে। খ্রিস্টানদেরকে তারা নাসারা নামে ডেকে অপমান করে।


কেন অন্য ধর্মাবলম্বীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল ?

আর যারা ইহুদি ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টীয় ধর্ম গ্রহণ করেছিল, তারা জীবন্ত খোদার সত্য নবী কে মেনে ; সত্য ধর্মের অমৃত গ্রহণ করেছে। দুনিয়াবি লোভ- লালসা তাদেরকে আকৃষ্ট করেনি ; ইহুদিদের সব অত্যাচার তারা সহ্য করেছে খোদার প্রেমে মশগুল হয়ে। এখন আপনারা নিশ্চয় বুঝতে পারছেন- বাপ- দাদার ধর্মই প্রকৃত সত্য ধর্ম নয়; সত্য ধর্ম হলো – কালের স্রোতধারায় আগত – যা পূর্বের নবীর ভবিষ্যৎ বানীর সত্যতার নিদর্শন। এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছেন- মুসা (আঃ) এর মতেই ইহুদিরা অচল ধর্ম পালন করছে। এ ধর্মে পুণ্য শূন্য হলেও ধর্ম নিয়ে যারা বিজনেস করছেন তাদের পকেটে ঠিকি লাভ ঢুকতেছে। আর বাপ-দাদার ধর্মকে টিকিয়ে রাখতে নানান রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ ইহুদিদেরকে মিথ্যা ধর্মের গোলাম বানিয়ে রাখছে।



তাহলে আমরা খৃষ্টানদেরকে কাফের বলি কেন? খৃষ্টানদেরকে আমরা কাফের বলি এজন্য যে- তারা আল্লাহর একত্ববাদ ভুলে ত্রিত্ববাদে লিপ্ত হয়ে গেছে; দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে ধর্মকে নোংরা করে ফেলেছে।



তারাও ইহুদীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। তারা হযরত ঈসা (আঃ) এর শিক্ষা, আদেশ, উপদেশ, ও নির্দেশ ভূলেগিয়ে দুনিয়াবি সুখে লিপ্ত হয়ে ইহুদিদের মতো অন্ধ হয়ে গেছে; সত্য হতে তারা যোজন-যোজন মাইল দূরে সরে গেছে। তারা তাদের নবীর আদেশ ও ভবিষ্যৎ বানীর সত্যতা যাচাই না করেই আল্লাহর প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কঠোর বিরোধিতা করেছে।



ইসলাম ধর্মের বিরোধিতায় নেতৃত্ব দিয়েছে ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রধানরা, খৃষ্টান পাদ্রী ও পৌত্তলিক নেতারা । তারা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীদের উপর কঠোর অত্যাচার চালিয়ে বাপ-দাদার ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে চেয়েছিল কিন্তু বিধি বাম। ইসলাম ধর্মের আলো ছড়িয়ে সারা জাহানে। দলে দলে লোক বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করে যুগের সত্য ধর্ম ইসলামের অমৃত স্বাদ গ্রহণ করল। এখানেও প্রমাণিত, বাপ-দাদার ধর্মই প্রকৃত সত্য ধর্ম নয়; কালের স্রোতধারায় আগত ধর্মই সত্য। এ ধর্মকে চেনার নামই মুত্তাকী, মুমিন।


সত্য ধর্মের লক্ষণঃ

  • মিথ্যা ধর্মের নেতারা ও সমাজ-পূজারীরা এর বিরোধিতা করে।
  • ধর্ম গ্রহণে বাধা প্রধান করে।
  • শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক অত্যাচার

এখন আমাদের উপর দায়িত্ব বর্তেছে যুগের সত্য ধর্মকে চেনার। আমরা কত দল-উপদলে বিভক্ত। কোন দল সঠিক আমরা সাধারণ মুসলমানরা কিভাবে বুঝব? শিয়া, সুন্নি, হাম্বলি, মালেকি, হানাফি আরও কত দল।

কোন দল সঠিক কে আমাদের বলে দিবে? কে আমাদের দেখাবে সঠিক পথ তার প্রতীক্ষায় রইলাম

আপনার পছন্দের আরো একটি পোস্ট পড়ুন:



আইয়ামে জাহেলিয়াত বনাম আধুনিক বিশ্ব