New Gadgets, Smartphone and Software Review

Showing posts with label রোজা. Show all posts
Showing posts with label রোজা. Show all posts

Thursday, November 30, 2023

রোজার নিয়ত ও ফজিলত

November 30, 2023 0

 রোজা বা রোযা হচ্ছে ফার্সী শব্দ আরবিতে যাকে বলা হয় সাওম। সাওমের বহুবচন হচ্ছে সিয়াম।  এর আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। ইবাদতের নিয়মে সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে পানাহার ও কোনো পাপকার্য, সহবাস বা যেকোন রকমের যৌন মিলন থেকে বিরত থাকাই সিয়াম সাধনা বা রোজা। এই রোজা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ করা হয়েছে। 

ফিলিস্তিন, ইহুদী ও হামাসের নির্ভেজাল বাস্তবতা 

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

 

রোজার-নিয়ত

রোজা সম্পর্কে মহান আল্লাহতালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ 

"হে যারা ঈমান এনেছ তোমাদের ওপর রোযা ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে করে তোমরা তাক্ওয়া অবলম্বন করতে পার"। (সূরা বাকারা: ১৮৩) 

 এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে আমাদের পূর্ববর্তী যারা ছিলো তারা রোজা রাখত। আমরা হচ্ছি মুসলমান - আমাদের পূর্ববর্তী কারা? হিন্দু, বোদ্ধ, ইহুদী , খৃস্টান, জৈন নাকি অন্য কোন ধর্মের অনুসারী? 

হযরত আদম ( আঃ ) ত্রিশ দিন রোজা রেখেছেন আর হযরত নূহ আঃ রোজা রেখেছেন এবং হযরত দাউদ ( আঃ) এক দিন বিরতি দিয়ে দিয়ে সারা বছরই রোজা রাখতেন। 


রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন:

হযরত নূহ (আ.) ১ লা শাওয়াল ও ১০ জিলহজ ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন।


— ইবনে মাজাহ ১৭১৪ (সনদ দুর্বল)


আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে মক্কার কুরাইশগণ আশুরার দিন অর্থাৎ ১০ই মুহরমের দিন রোজা রাখত , ওদিন তারা কাবা ঘরের গিলাফ পরিবর্তন করত। মদিনার ইহুদীরাও সপ্তম মাসের ১০ম দিনে রোজা রাখত। 

 

রোজার শর্ত 

আপনি ফরজ বা নফল অথবা সুন্নত যে রোজাই রাখেন না কেনো নিচের ৪টি শর্ত না মিললে রোজা হবে না । 

  1. মুসলিম হওয়া
  2. বালেগ হওয়া
  3. অক্ষম না হওয়া
  4. ঋতুস্রাব থেকে বিরত থাকা নারী।  


রোজার ফরজ 

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে রোজার ফরজ কয়টি? তাদের জ্ঞ্যাতার্থে জানাচ্ছি যে- রোজার ফরজ ৩টি । যথা-

  1. রোজার নিয়ত করা
  2. সকল ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকা
  3. স্ত্রী সহবাস বা যৌন মিলন থেকে বিরত থাকা। 


রোজার প্রকারভেদ

আমরা অনেকেই জানিনা যে রোজা বা সাওম কয় রকমের। আপনারা যারা জানেন তাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ আর যারা জানেননা জেনে নিন। রোজা পাঁচ প্রকারের , যেমন

  1. ফরজ রোজা
  2. ওয়াজিব রোজা
  3. মুস্তাহাব রোজা
  4. সুন্নত রোজা
  5. নফল রোজা 

রোজা ভঙ্গ হলে করনীয়

বিনা কারণে রোজা ভঙ্গ করলে তাকে অবশ্যই কাজা-কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব। যতটি রোজা ভঙ্গ হবে, ততটি রোজা আদায় করতে হবে। কাজা রোজা একটির পরিবর্তে একটি অর্থাৎ রোজার কাজা হিসেবে শুধু একটি রোজাই যথেষ্ট। কাফফারা আদায় করার তিনটি বিধান রয়েছে।

রোজার কাফফারা

রোজার কাফফারা আদায়ের জন্য ৩টি বিধান আছে, যথা-

  1. একটি রোজা ভঙ্গের জন্য একাধারে ৬০টি রোজা রাখতে হবে। কাফফারা ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজার মাঝে কোনো একটি ভঙ্গ হলে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে।
  2. যদি কারও জন্য ৬০টি রোজা পালন সম্ভব না হয় তবে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে। কেউ অসুস্থতাজনিত কারণে রোজা রাখার ক্ষমতা না থাকলে ৬০ জন ফকির, মিসকিন, গরিব বা অসহায়কে প্রতিদিন দুই বেলা করে পেটভরে খাওয়াতে হবে।
  3. গোলাম বা দাসী আজাদ করে দিতে হবে।


যেসব কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে কিন্তু পরে কাজা করতে হয় তা হচ্ছে


  • মুসাফির অবস্থায়
  • রোগ-ব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে
  • মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে
  • এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়, যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে
  • শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে
  • কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে।
  • মহিলাদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন রোজা ভঙ্গ করা যায়


যেসব কারণে শুধু কাজা আদায় করতে হয়


  • স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করার কারণে যদি বীর্যপাত হয়
  • ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে
  • পাথরের কণা, লোহার টুকরা, ফলের বিচি গিলে ফেললে
  • ডুশ গ্রহণ করলে
  • বিন্দু পরিমাণ কোন খাবার খেলে তবে অনিচ্ছাকৃত ভাবে বা মনের ভুলে খেলেও রোজা ভাংবে না তবে মনে আসা মাত্রই খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে
  • নাকে বা কানে ওষুধ দিলে (যদি তা পেটে পেঁৗছে)
  • মাথার ক্ষতস্থানে ওষুধ দেওয়ার পর তা যদি মস্তিষ্কে বা পেটে পেঁৗছে
  • যোনিপথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সহবাস করার ফলে বীর্য নির্গত হলে



রমজানের রোজা পালনের জন্য কিছু আমল গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য রয়েছে বিশেষ নিয়ত ও দোয়া। চলুন জেনে নেই সেহেরি, ইফতার, তারাবিহ, রোজার নিয়ত ও দোয়া: 

সেহরির নিয়ত


সেহরির আলাদা কোনও নিয়ত বা দোয়া নেই। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে যে পানাহার করা হয়, সেটাকে ইসলামের পরিভাষায় সেহরি বলে হয়। তাই সেহরি খাওয়ার সময় অন্যান্য খাবারের যে দোয়া আছে তা পড়ে নেওয়া সুন্নত।


খাবারের আগের দোয়া


খাওয়া শুরু করার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া পড়তেন, 


بسم الله وعلى بركةالله بعالى


উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারকাতিল্লাহ


অর্থ: আল্লাহ তায়ালার নামে খানা খাওয়া শুরু করছি এবং আল্লাহ তায়ালার বরকত প্রার্থনা করছি। (সাআলাবী)।


রোজার নিয়ত


বাংলাদেশে রোজার একটি আরবি নিয়ত প্রসিদ্ধ— যেটা মানুষ মুখে পড়ে থাকেন। তবে এটি হাদিস ও ফিকাহের কোনো কিতাবে বর্ণিত হয়নি। তবে কেউ চাইলে পড়তে পারেন। 


রোজার আরবি নিয়ত


نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضَا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْم


রোজার নিয়তের বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।


অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়্যত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোযা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।


রোজার নিয়ত বাংলায়


ফরজ বা নফল রোজার নিয়ত আরবিতে হওয়া জরুরি নয়। যেকোনো ভাষায় নিয়ত করা যায়। নিয়ত এভাবে করা যায়— আমি আজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। 

 (জাওয়াহিরুল ফিকাহ: খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩৭৮)

ইফতারির দোয়া 


بِسْمِ الله - اَللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَ عَلَى رِزْقِكَ اَفْطَرْتُ


উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আ’লা রিযক্বিকা আফত্বারতু।

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহঃ

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও সবল মুমিনের জন্য রোজা রাখা আবশ্যক। শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নামই রোজা নয়; বরং রোজা রাখা অবস্থায় মেনে চলতে হয় বেশ কিছু নিয়মও।

  •  ইচ্ছা করে বমি করা
  •  বমির বেশির ভাগ মুখে আসার পর তা গিলে ফেলা
  •  মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের পর ঋতুস্রাব
  •  ইসলাম ত্যাগ করলে
  •  গ্লুকোজ বা শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা সেলাইন দিলে
  •  প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে ওষুধ বা অন্য কিছু শরীরে প্রবেশ করালে
  •  রোজাদারকে জোর করে কেউ কিছু খাওয়ালে
  •   ইফতারের সময় হয়েছে ভেবে সূর্যাস্তের আগে ইফতার করলে
  •  মুখ ভরে বমি করলে
  •   ভুলবশত কোনো কিছু খেয়ে, রোজা ভেঙে গেছে ভেবে ইচ্ছা করে আরও কিছু খেলে
  •  বৃষ্টির পানি মুখে পড়ার পর তা খেয়ে ফেললে
  •  কান বা নাক দিয়ে ওষুধ প্রবেশ করালে 
  •  জিহ্বা দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে ছোলা পরিমাণ কোনো কিছু বের করে খেয়ে ফেললে
  •  অল্প বমি মুখে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেললে
  •  রোজা স্মরণ থাকা অবস্থায় অজুতে কুলি বা নাকে পানি দেয়ার সময় ভেতরে পানি চলে গেলে। (ফাতাওয়ায়ে শামি ও ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি)।

কোরআনের আলোকে রোজার ফজিলত 

সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েক দিনের। তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে অথবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূর্ণ করবে। যাদের জন্য অতিশয় কষ্টদায়ক হয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া-একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্যে অধিকতর কল্যাণকর যদি তোমরা তা জানতে। (সূরা বাকারাহ-১৮৪)

 সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্যে তোমাদের স্ত্রীদের বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের জন্যে এবং তোমরাও তাদের জন্যে পরিচ্ছদ। আল্লাহ জেনেছেন যে, তোমরা তোমাদের নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদেরকে মার্জনা করেছেন, সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও এবং আল্লাহ তোমাদের জন্যে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন (অর্থাৎ সন্তান) তা অন্বেষণ করো। আর তোমরা আহার করো ও পান করো যতক্ষণ তোমাদের জন্যে (রাত্রির) কালো রেখা থেকে ফজরের সাদা রেখা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। আর তোমরা মসজিদে ই’তিকাফ অবস্থায় তাদের সাথে সংগত হয়ো না। এগুলো আল্লাহর (নির্ধারিত) সীমা, সুতরাং এর নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ মানুষের জন্যে তার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা তাকওয়া বা আল্লাহভীরুতা অবলম্বন করতে পারে। (সূরা বাকারাহ-১৮৭)


 شَہۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡہِ الۡقُرۡاٰنُ ہُدًی لِّلنَّاسِ وَبَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡہُدٰی وَالۡفُرۡقَانِ ۚ فَمَنۡ شَہِدَ مِنۡکُمُ الشَّہۡرَ فَلۡیَصُمۡہُ ؕ وَمَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ اللّٰہُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَلَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ ۫ وَلِتُکۡمِلُوا الۡعِدَّۃَ وَلِتُکَبِّرُوا اللّٰہَ عَلٰی مَا ہَدٰىکُمۡ وَلَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ


অর্থঃ

মুফতী তাকী উসমানী

রমযান মাস- যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য (আদ্যোপান্ত) হিদায়াত এবং এমন সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী সম্বলিত, যা সঠিক পথ দেখায় এবং (সত্য ও মিথ্যার মধ্যে) চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই এ মাস পাবে, সে যেন এ সময় অবশ্যই রোযা রাখে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অসুস্থ হয় বা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনে সে সমান সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের পক্ষে যা সহজ সেটাই চান, তোমাদের জন্য জটিলতা চান না, এবং (তিনি চান) যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূরণ করে নাও এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যে পথ দেখিয়েছেন, সেজন্য আল্লাহর তাকবীর পাঠ কর  এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

সূরা বাকারাঃ আয়াত-১৮৫

হাদীসের আলোকে রোজার ফজিলত

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সো:) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ বিশ্বাস ও পর্যালোচনাসহ রমজান মাসের সিয়াম পালন করবে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুণাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (সহীহ বুখারী: ৩৮, সহীহ মুসলিম: ৭৬০)

 হযরত সাহল বিন সা’দ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সো:) ইরশাদ করেছেন, জান্নাতের একটি দরজা আছে, একে রাইয়ান বলা হয়,। এই দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন একমাত্র সিয়াম পালনকারী ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই পথে প্রবেশ করবে না। সেদিন এই বলে আহ্বান করা হবে- সিয়াম পালনকারীগণ কোথায়? তারা যেন এই পথে প্রবেশ করে। এভাবে সকল সিয়াম পালনকারী ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অত:পর এ পথে আর কেউ প্রবেশ করেবে না। (সহীহ বুখারী: ১৮৯৬, সহীহ মুসলিম: ১১৫২)

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সো:) ইরশাদ করেছেন, সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ কোনোদিন সিয়াম পালন করলে তার মুখ থেকে যেন অশ্লীল কথা বের না হয়। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে অথবা ঝগড়ায় প্ররোচিত করতে চায় সে যেন বলে, আমি সিয়াম পালনকারী। (সহীহ বুখারী: ১৮৯৪, সহীহ মুসলিম: ১১৫১)

হযরত আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সো:) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সিয়াম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য। কিন্তু সিয়াম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সিয়াম ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন সিয়াম পালনের দিন অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি সিয়াম পালনকারী। যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তার শপথ! অবশ্যই সিয়াম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চেয়েও সুগন্ধি। সিয়াম পালনকারীর জন্য রয়েছে দু’টি খুশি, যা তাকে খুশি করে। যখন যে ইফতার করে, সে খুশি হয় এবং যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাওমের বিনিময়ে আনন্দিত হবে। (সহীহ বুখারী: ১৯০৪, সহীহ মুসলিম: ১১৫১)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সো:) ইরশাদ করেন, তোমাদের নিকট রমজান মাস উপস্থিত। এটা এক অত্যন্ত বরকতময় মাস। আল্লাহ তা’য়ালা এ মাসে তোমাদের প্রতি সাওম ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়, এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এ মাসে বড় বড় শয়তানগুলোকে আটক রাখা হয়। আল্লাহর জন্যে এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও অনেক উত্তম। যে লোক এ রাত্রির মহা কল্যাণলাভ হতে বঞ্চিত থাকল, সে সত্যিই বঞ্চিত ব্যক্তি। (সুনানুন নাসায়ী:২১০৬)

রোজা রেখে চুল কাটা যাবে কি?

জ্বী, আপনি রোজা অবস্থায় শরীরের অবাঞ্ছিত লোম, পশম, নোখ, দাড়ি এবং চুল কাটতে পারবেন। এতে আপনার রোজা ভঙ্গ হবে না ।

সেহরি না খেলে রোজা হবে?

সেহরি খাওয়া উত্তম । রাসূল ( সাঃ ) বলেছেন সেহরি হচ্ছে বরকতময় খাবার। তবে কেউ যদি সেহরি না খেয়ে রোজা রাখে তবে তা জায়েজ হবে।

বমি করলে কি রোজা ভেঙে যায়?

না, রোজা অবস্থায় মুখ ভরে বমি হলেও রোজা ভাঙবে না। তবে ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে রোজা ভেঙে যাবে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো ব্যক্তির বমি হলে তাকে সে রোজা কাজা করতে হবে না (অর্থাৎ তার রোজা ভাঙবে না)। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করবে, সে যেন রোজার কাজা করে।।

শবে মেরাজের রোজা কয়টি?

শবে মেরাজের নির্দিস্ট কোন রোজা নেই। কোরআন হাদীসে আদেশ পাওয়া যায়নি।

জিলহজ্জ মাসের রোজা কয়টি?

জিলহজ মাসের শুরু থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত রাসুল (সা.) সিয়াম পালন করতেন এবং যারা হজে যাবে না, তারা জিলহজ মাসের ৯ তারিখ, যেটা আরাফার দিবস রয়েছে, আরাফার দিবসে সিয়াম পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ মনে করেন, এই ৯ দিনই সিয়াম পালন করবেন, তাহলে তিনি করতে পারেন। আর এর মধ্যে কেউ যদি মনে করেন, এর বেশির ভাগ সিয়াম পালন করবেন, সেটাও করতে পারেন। যেহেতু নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল, এমনকি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের চেয়েও বেশি প্রিয় আমল।’ সুতরাং, এই কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ এই দিনগুলোতে সিয়াম পালন করা যেতে পারে, জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন। শুধু ঈদের দিন সিয়াম পালন করতে পারবেন না।

আরাফার রোজা কয়টি?

১টি। জিলহজ্জ্ব মাসের নবম দিন কে আরাফার দিবস বলা হয়। হাদীসে আছে এই দিন সাওম পালন করলে ২ বছরের গুনাহ মাফ হয় ।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়, রাকাত, নিয়ম ও ফজিলত

November 30, 2023 0

আমরা মুসলিমরা জানি যে - প্রত্যক মুসলিম নর-নারীর উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামজ ফরজ। এই পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে ফযিলতপূর্ণ নামাজ হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ। কোরআন মাজিদে মহান আল্লাহ তায়ালা এই নামাজের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন। পাঁচ ওয়াক্ত আবশ্যক এবং ফরজ নামাজের বাহিরে যদি অন্য কোন মর্যাদাসম্পন্ন ও ফযিলতপূর্ণ নামাজ থাকে সেটি হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাজ।

তাহাজ্জুদ-নামাজ


এই ব্লগ থেকে আপনি জানতে পারবেন-  তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও নিয়ত, গুরুত্ব এবং ফজিলত ।


তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করতে পারে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের আগে নবী করীম (সাঃ) এর উপর তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া বাধ্যতামূলক ছিল।


তাই তিনি কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকেন নি। এই নামাজ আদায়ের মাধ্যমে অশেষ পুণ্য লাভ করা যায়। আবার  এই নামাজ না পড়লে কোন গুনাহ হবে না।পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে অনেক ভালো।  


তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

তাহাজ্জুদ নামাজ অন্য সব নামাজের মতোই পড়তে হয়। এর বিশেষ কোন নিয়ম নেই। নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, তাহাজ্জুদের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়। তিনি কখনো দুই রাকআত, কখনো চার রাকআত, কখনো আট রাকআত, কখনো বারো রাকআত পড়তেন।

কেউ যদি ২ রাকাত পড়তে পারে তবে তার তাহাজ্জুদ সালাত আদায় হবে। এই দুই রাকাত করে সালাত আদায় করার আলাদা কোন নিয়ম নেই। এই নামাজ আদায়ের জন্য কোন  সুনির্দিষ্ট সূরা ও পড়তে হয় না।

তাকবিরে তাহরিমা আল্লাহু আকবর বলে নিয়ত করা। অতঃপর ছানা পড়া,সূরা ফাতিহা পড়া, সূরা মিলানো তথা কেরাত পড়া।অতঃপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় রুকু সেজদাহ আদায় করা। এভাবে দ্বিতীয় রাকআত আদায় করে তাশাহুদ,দুরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ার পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।

মহাগ্রন্থ আলকোরানের  যে সমস্ত সূরা মুখস্থ আছে আপনার তন্মধ্য বড়  বড় সূরা যে সূরা আপনি ভালোভাবে পারেন ওইটা দিয়ে পড়েন। আপনি চাইলে এক রাআকাতে কয়েকটি সূরা ও পড়তে পারেন আবার একই সূরা বারবার পড়তে পারেন। এই নামাজ যত আস্তে ধীরে এবং সময় নিয়ে পড়তে পারেন ততো ভালো।

রুকু এবং সেজদাতে লম্বা সময় নিয়ে পড়তে চেষ্টা করবেন। সেজদার তাসবিহ পাঠ করার পর আপনার যতো চাওয়া পাওয়া আছে সব আল্লাহকে বলেন। কারণ সেজদারত অবস্থায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে।আল্লাহ তায়ালা তার সব চাওয়া-পাওয়া শোনেন এবং পূরণ করেন।  


মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম

আপনাদের অনেকের কাছ থেকেই  প্রশ্ন আসে- মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম কি? মহিলাদের তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আলাদা কোন নিয়ম নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য পুরুষ-মহিলাদের একই নিয়ম বিধান করেছেন। 


তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত


نَوَيْتُ اَنْ اسَلَى رَكَعَتِى التَّهَجُّدَ


তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত এর বাংলা অর্থ

হে আল্লাহ আপনার উদ্দেশ্যে কিবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নিয়ত করছি আল্লাহু আকবার


তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ 


নাওয়াইতুয়ান  উসালিয়া  লিল্লাহি  তা’আলা  রাকাআতাই  সালাতিত  তাহাজ্জতিই  মোতাওয়াজ্জিহান  ইলা  জিহাতিল  কাবাতিশ  শারিফাতি, আল্লাহু আকবর।


তাহাজ্জুদ নামাজের সময়

তাহাজ্জুদ শব্দের অর্থ হচ্ছে ঘুম থেকে জাগা বা ঘুম থেকে ওঠা। তাহাজ্জুদের নামাজ রাতের শেষ অংশে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজের মূল সময় হচ্ছে রাত ২টা থেকে শুরু করে ফজরের আগ পর্যন্ত।


কারো ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হলে এশার নামাজের ফরজ এবং সুন্নত পড়ার পর বিতর নামাজের আগে ২ রাকআত ২ রাকআত করে তাহাজ্জুদের নিয়ত করে এই নামাজ পড়তে পারবেন। এবং পড়ে বিতরের নামাজ পড়বেন। তবে তাহাজ্জুদ নামাজের সর্বোত্তম সময় হচ্ছে শেষ রাতে। 


তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল


অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন তাহাজ্জুদ নামাজ কি সুন্নত নাকি নফল? 


নফল শব্দের অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত। নফল নামাজ পড়লে আপনার আমলনামায় সওয়াব লেখা হবে। ফরজ নামাজে যদি কোন ত্রুটি থাকে তখন আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের বলেন দেখো এর কাছে কোন নফল নামাজ আছে কি না।তাই ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল নামাজ পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।


আর সুন্নত হচ্ছে যে আমল নবী করীম (সাঃ) করেছেন বা কোরআনে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাহাজ্জুদের নামাজ নবী করীম (সাঃ) নিজে পড়েছেন এবং পড়তে  উৎসাহিত করেছেন তাই এটি সুন্নত। একইসঙ্গে এটি নফল ও বলা যায়। কারণ এই নামাজ আদায় করতে না করলে আপনার গুনাহ হবে না।এটি আপনার জন্য বাধ্যতামূলক নয়।   


তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত

তাহাজ্জুদের নামাজ সর্বনিম্ন ২ রাকআত এবং সর্বোচ্চ ১২ রাকআত। ৮ রাকআত পড়া উত্তম। বেশিরভাগ সময় রাসুল (সাঃ) তাহাজ্জুদের নামায ৮ রাকাত পড়তেন এবং এর পর বিতরের নামায পরে মোট ১১ রাকাত পূর্ণ করতেন।


রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ  হলো সব রাসুলগনের সুন্নত। আল্লাহ তায়ালা মাহবুব বান্দাগনের অভ্যাস। আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্ক স্থাপন তথা নৈকট্য ও সন্তোষ অর্জনের অন্যতম পন্থা। 

কোরআনের আলোকে তাহাজ্জুদ নামাজঃ 

রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করুন। এটা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য।আশা করা যায় আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে।

(সূরা বনি ইসরাইল, আয়াতঃ৭৯)

তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদের যে রুজি দিয়েছি তা থেকে তারা দান করে।

সূরা সেজদাহ, আয়াতঃ১৬

নিশ্চয়ই রাতে ঘুম থেকে ওঠা মনকে দমিত করার জন্য খুব বেশি কার্যকর এবং সে সময়ের কোরআন পাঠ বা জিকির খুবই যথার্থ। 

সূরা মুযাম্মিল, আয়াতঃ ৬ 

তারা রাতের সামান্য অংশ নিদ্রায় অতিবাহিত করে এবং রাতের শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

সূরা আয-যারিয়াত, আয়াতঃ ১৭-১৮   

আর আল্লাহর প্রিয় বান্দা তারা যারা তাদের রবের দরবারে সেজদাহ করে এবং দাড়িয়ে থেকেই রাত কাঠিয়ে দেয়।

সূরা আল-ফোরকান, আয়াতঃ৬৪

তারা ছিল কঠিন পরীক্ষায় পরম ধৈর্যশীল, অটল অবিচল,সত্যের অনুসারী, পরম অনুগত। আল্লাহর পথে ধন-সম্পদ উৎসর্গকারী এবং রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

সূরা আলে-ইমরান, আয়াতঃ ১৭

হাদীসের আলোকে তাহাজ্জুদ নামাজঃ 

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর থেকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, আফজালুস সালাতি বাদাল মাফরুদাতি সালাতুল লাইলি’ ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।

মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ

>
p>রাসুল (সাঃ) বলেন, আমাদের প্রভু পরওয়ারদিগার তাবারাকা ওয়া তা’আলা প্রত্যেক রাত্রে দুনিয়ার আসমানে (যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়) নেমে আসেন যখন রাত্রের এক তৃতীয়াংশ বাকী থাকে । অতঃপর তিনি বলেন, তোমাদের কে আমাকে ডাকবে! আমি তার ডাকে সাড়া দেব । কে আমার কাছে কিছু চাইবে আমি তাকে তা দেব, কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।

মুসলিম, মেশকাত ১০৯ পৃঃ

রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাত্রে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদের নামায পড়ে এবং সে তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে জাগিয়ে নামায পড়ায় এমনকি সে যদি জেগে না উঠে, তবে তার মুখে খানিকটা পানি ছিটিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতি আল্লাহ রহমত বর্ষণ করে থাকেন। অনুরুপ কোন মহিলা যদি রাত্রিকালে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে এবং সে তার স্বামীকে নামাযের জন্য জাগায় এমনকি স্বামী না জাগলে স্ত্রী তার মুখে পানি ছিটিয়ে তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয় তাহলে তার প্রতিও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকে।

 আবু দাউদ, নাসায়ী, মেশকাত ১০৯ পৃঃ

কেয়ামতের ভয়াবহ বিপর্যয় ও কঠিন হিসাব-নিকাশের দিবসে কোন ব্যক্তি যদি সহজ হিসাব কামনা করে, তবে তার উচিত হবে নিয়মিত তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া।

শ্রেষ্ঠতম মুফাসিসরে কোরআন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (র.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি হাশরের ময়দানে সহজ হিসাব কামনা করে, তার উচিত হবে আল্লাহ যেন তাকে রাত্রির অন্ধকারে সেজদারত ও দাঁড়ানো অবস্থায় পান। তার মধ্যে পরকালের চিন্তা ও রহমতের প্রত্যাশাও থাকা দরকার।

 তাফসিরে কুরতুবি, মা’আরেফুল কোরআন, ক্বিয়ামুল লাইল

হজরত জাবির (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলতে শুনেছি রাতের মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত আছে যদি কোন মুসলমান তা তালাশ করে এবং আল্লাহর কাছে ইহ ও পরকালের কোন কল্যাণ চায় আল্লাহ নিশ্চয় তাকে তা দেন

সহিহ মুসলিম    

তাহাজ্জুদ নামাজের দোয়া 

তাহাজ্জুদ নামাজে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যে দোয়া পড়তেন

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশে যখন দাঁড়াতেন,ম তখন (এ) দোয়া পড়তেন-


اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ وَلَكَ الْحَمْدُ، لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ،


وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ الْحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ، وَلِقَاؤُكَ حَقٌّ، وَقَوْلُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ،


وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ ـ أَوْ لاَ إِلَهَ غَيْرُكَ


উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আংতা কায়্যিমুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না ওয়া লাকালহামদু। লাকা মুলকুস সামাওয়অতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফিহিন্না। ওয়া লাকাল হামদু আংতা নুরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ। ওয়া লাকাল হামদু আংতাল হাক্কু। ওয়া ওয়া’দুকাল হাক্কু। ওয়া লিক্বাউকা হাক্কু। ওয়াল ঝান্নাতু হাক্কু। ওয়ান নারু হাক্কু। ওয়ান নাবিয়্যুনা হাক্কু। ওয়া মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা হাক্কু। ওয়াস সাআতু হাক্কু। আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু। ওয়াবিকা আমাংতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু। ওয়া ইলাইকা আনাবতু। ওয়া বিকা খাসামতু। ওয়া ইলাইকা হাকামতু। ফাগফিরলি মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্খারতু। ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ’লাংতু। আংতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আংতাল মুআখ্খিরু। লা ইলাহা ইল্লা আংতা। লা ইলাহা গাইরুকা।’ (বুখারি)

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! সব প্রশংসা আপনারই, আপনিই আসমান-জমিন ও উভয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আসমান-জমিন এবং এর মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর কর্তৃত্ব আপনারই। আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনি আসমান-জমিনের নুর। আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনি আসমান-জমিনের মালিক, আপনারই জন্য সব প্রশংসা।


আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য। (পরকালে) আপনার সাক্ষাৎ সত্য। আপনার বাণী সত্য। আপনার জান্নাত সত্য। আপনার জাহান্নাম সত্য। আপনার (প্রেরিত) নবিগণ সত্য। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্য, কেয়ামত সত্য।


তাহাজ্জুদ নামাজ অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ নামাজ। ফরজ নামাজের পড়েই এই নামাজের অবস্থান। তাই সব মুসলিম বান্দাদের উচিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এবং মনকে পবিত্র করা। আল্লাহ সব মুলসিম উম্মাহকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার তওফিক দান করুন। আমিন। 


আমাদের আরও কয়েকটি পোষ্টঃ

ফজরের নামাজের সময়

এশার নামাজ কয় রাকাত? এশার নামাজের সময়

রোজার নিয়ত ও ফজিলত

তাহাজ্জুদ শব্দের অর্থ কি

তাহাজ্জুদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ রাত জাগরণ বা নিদ্রা ত্যাগ করে রাতে নামাজ পড়া।


তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে যা যা জানা জরুরীঃ
তাহাজ্জুদ শব্দের অর্থ কি?

তাহাজ্জুদ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ রাত জাগরণ বা নিদ্রা ত্যাগ করে রাতে নামাজ পড়া।

তাহাজ্জুদ নামাজ কি?

মধ্যরাতে ঘুম থেকে ওঠে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নামাজ আদায় করা হয় তা-ই ‘সালাতুত তাহাজ্জুদ’ বা তাহাজ্জুদ নামাজ।

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাত?

তাহাজ্জুদের নামাজ সর্বনিম্ন ২ রাকআত এবং সর্বোচ্চ ১২ রাকআত। ৮ রাকআত পড়া উত্তম।

তাহাজ্জুদ নামাজ সুন্নত নাকি নফল?

তাহাজ্জুদের নামাজ নবী করীম (সাঃ) নিজে পড়েছেন এবং পড়তে উৎসাহিত করেছেন তাই এটি সুন্নত।একইসঙ্গে এটি নফল ও বলা যায়।কারণ এই নামাজ আদায় করা বাধ্যতামূলক নয়।

তাহাজ্জুদ নামাজ কখন পড়তে হয়?

তাহাজ্জুদের নামাজ রাতের শেষ অংশে পড়া উত্তম। তাহাজ্জুদ নামাজের মূল সময় হচ্ছে রাত ২টা থেকে শুরু করে ফজরের আগ পর্যন্ত।